এর চেয়ে অবাক করার ঘটনাতো আর কিছু হতে পারে না : আবুল হায়াত

Read Time0Seconds

আবুল হায়াত বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনয় ব্যক্তিত্বের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একজন অভিনেতা। শুধু অভিনেতা নন মানুষ হিসেবেও সমাজে তার বেশ সুখ্যাতি রয়েছে। তার দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য সিনেমা আর নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। দেশে-বিদেশে অর্জন করেছেন সন্মানা আর ভালোবাসা। এই জাদরেল অভিনেতাও এক সময় বুয়েটিয়ান ছিলেন।তিনিও অধ্যায়ন করেছেন দেশের এই সব থেকে বড় বিদ্যাপিঠ থেকে। তাই সারা দেশবাসির মত আবরার ফাহাদের ঘটনায় তার মন সবার থেকে একটু বেশই ব্যথিত। গতকাল বুয়েটে আয়োজিত ফাহাদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিচার চাইতে একটি মানববন্ধন করে সেখানকার ছাত্ররা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক এই বুয়েটিয়ান।
গত বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার হল রুমের সামনে বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ওই মানব বন্ধনের আয়োজন করে। বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের ছাত্র ছিলেন আবুল হায়াত। তিনি থাকতেন শেরে বাংলা হলে। যে হলে থাকতেন আবরার ফাহাদ। তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত আবুল হায়াতের মতো সাবেক শিক্ষার্থীরাও।

আবুল হায়াত বলেন, ’আমরা যখন বুয়েটে পড়েছি তখন এখানকার পরিবেশ এমন ছিলো না। আমরা যখন আন্দোলন করতাম তখন ভিসি এসে আমাদের সামনে বসে থাকতেন। আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসতেন। কারণ তিনি আমাদেরকে নিজের সন্তানের মনে করতেন।’

’আর আজকের ভিসি। আমার সন্তান মারা যাওয়ার খবর শুনে আমি যাবো না সেখানে। ভিসির সন্তান নয় ছাত্ররা। এর চেয়ে অবাক করার ঘটনাতো আর কিছু হতে পারে না।’

’আপনারা বিশ্বাস করুন, আমার স্ত্রী হাইপারটেনশনের রোগী। কালকে থেকে প্রায় বিছানায় পড়ে আছেন। তিনি বলছেন, এই ছেলেটা তো আমাদেরও ছেলে হতে পারতো। এই ছেলেদের সাথে তো তুমি সেদিন অনুষ্ঠান করে আসলে না।’

’হ্যাঁ! আমি দুঃখিত! এই গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা শেরে বাংলা হলে ৫০ বছর পূর্তি পূনর্মিলন অনুষ্ঠান করেছি। এবং আরো দুর্ভাগ্য আমার এই ছেলেগুলোকে আমি চিনি। গত বছর যখন হলফেস্ট হলো তখন এরা আমাকে ফোন করেছিলো। যে হায়াত ভাই আপনি অবশ্যই আসবেন। আমরা পুরোনো ছাত্রদেরকে চাই। আমি এসেছিলাম। আরো অনেকে এসেছিলো।’

’এর কিছুদিন পর আমরা ৫০ বছর পূর্তি করতে এসেছিলাম। সেসময় আমরা হলের প্রভোস্টকে বললাম আমাদেরকে সহায়তা করতে। আমরা বললাম, আমরা বর্তমান ছাত্র পরিষদকেও আমাদের অ্যালামনাই এসোসিয়েশনে যুক্ত করতে চাই। তিনি জানালেন, হলে কোনো ছাত্র পরিষদ নেই। আমি বললাম, তাহলে ছাত্রদের দেখাশোনা কে করে। তিনি বললেন, আছে কিছু ছাত্র যারা নিজেরা-নিজেরাই তা করে। আমি বললাম, আপনি কি হলে যান না। তিনি বললেন, না আমি ওপরের দিকে খুব একটা যাই না। কারণ আমাকে ওরা নানা রকম অপমানজনক ইঙ্গিতপুর্ণ কথা বলে। এই যে শিক্ষক ও ছাত্রদের মাঝে এমন দূরত্ব এবং প্রশাসনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে তা তো হওয়ার কথা ছিলো না।’

’এমনকি আমরা ভিসিকে আমাদের অনুষ্ঠানের জন্য একটি চিঠি দিয়ে দেড় মাস অপেক্ষা করেছি। এবং তিনি একটি বিশেষ অতিথি হয়ে আসবেন বলে কথা দিয়েও আসেননি। এখন একটা ভিসিকে আমরা কী বলতে পারি? তিনি এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান। আমাদের চোখের সামনে এখনো ড. রশিদ, ড. নাসের, শাহজাহান এইসব ব্যক্তিত্ব রয়েছে।’

’একজন শিক্ষার্থী নির্যাতিত হলো আপনি আসলেন না। যে ছেলেগুলো এই নির্যাতন করেছে তাদের মানব হলেও তারা আর আজ দানবে পরিণত হয়েছে। আর এই যে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আজকে আন্দোলন শুরু করেছে এটা কোনো একদিনের কারণে নয়। এটা তাদের যে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভুত ক্ষোভ তারই বহিঃপ্রকাশ। তাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় তারা রুখে দাঁড়িয়েছে। কয়েকটি দাবি জানিয়েছে।’

’তাদের আজ একটি দাবি হলো এই অঙ্গনে রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। আমাদের সময়েও রাজনীতি ছিলো না বুয়েটে। তাই বলে কি আমরা জাতীয় স্বার্থে যুক্ত ছিলাম না। ১৯৬৬ সালে, আমার মনে আছে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় মিছিলটি হয়েছিলো বুয়েট থেকেই।’

’আজকে ছাত্রদের যে দাবি আমি তার সঙ্গে আমি একমত আছি। আপনারাও আমার সঙ্গে একমত হবেন আশা করি। তবে ছাত্র রাজনীতি খারাপ আমি তা বলবো না। ছাত্র রাজনীতি করেই আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু যারা পেছন থেকে ছাত্র রাজনীতিকে অপব্যাবহার করে তাদের বিরুদ্ধে একশন নিতে হবে। প্রশাসনকে আগে ধুয়ে-মুছে সাফ করতে হবে। হারপিক বা এর চেয়েও কড়া কিছু থাকলে তাদেরকে পরিষ্কার করতে হবে।’

’প্রয়োজন হলে ১০ বছর বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ রাখেন। এর মধ্যে যদি রাজনীতি করতে চাওয়া ছাত্ররা তাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে পারে তারপর তাদের জন্য রাজনীতি করার সুযোগ দেন।’

প্রসঙ্গত, আবুল হায়াতের শিক্ষা জীবন বেশ আলোকিত। স্কুল জীবন কাটে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট ও রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে মেটৃকুলেশন (বর্তমান এসএসসি) পাস করে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে আইএসসি পাস করে ১৯৬২ সালে বুয়েটে ভর্তি হন। বুয়েটে পড়ার সময়ই শেরেবাংলা হলে থাকতেন। এরপর বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট থেকে ১৯৬৭ সালে পাস করে ১৯৬৮ সালেই ঢাকা ওয়াসার প্রকৌশলী পদে যোগ দেন।এর পর সব ছেড়ে দিয়ে বনে যান পুরো ডোস্তর অভিনেতা।

0 0
0 %
Happy
0 %
Sad
0 %
Excited
0 %
Angry
0 %
Surprise

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close