চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর জায়গা অবৈধ দখলে যুবলীগ নেতারকসাই আকতারের কোটি টাকার বাণিজ্য

Read Time1Second

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর নদীর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে ভাড়া দিয়ে এবং মদ, জুয়া, দেহ ব্যবসা শুরু করে বিপুল টাকা কামিয়ে নিচ্ছে। দিনমজুর হিসেবে একটি কসাই দোকানের কর্মচারী আকতার প্রকাশ কসাই আকতার রাতারাতি কোটিপতি হয়েছে বলে কানাঘুষা চলছে। সে অবৈধ কর্মকান্ডে দূর্নীতিবাজ কতিপয়  পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক  নেতার ছত্র ছায়ায় গড়ে তোলে কর্ণফুলী নদীর জায়গার উপর বিশাল সাম্রাজ্য।

যখন যে দল ক্ষমতায় যায় তখন সে দলে ভিড়ে গিয়ে কাজ করেন আকতার হোসেন। আকতারের অনৈতিক, অবৈধ কর্মকান্ডে বিব্রত এলাকাবাসী ও দলীয় লোকজনও। আকতারের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানায় আকতার হোসেন মাত্র ১০ বছর আগেও ২০১০ সালের শুরুতে চাক্তাই নতুন ঘাট এলাকায় দিন মজুর হিসেবে সাপ্লাই দোকানে চাকুরী শুরু করে। আকতার হোসেন মাত্র ১০ বছরে কর্ণফুলী নদীর চাক্তাই ভেড়া মার্কেট সংলগ্ন জেগে উঠা চর দখল করে অবৈধভাবে  পাঁচ শতাধিক ঝুঁপড়ি ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে বর্তমানে কোটি টাকার মালিক বনে গেছে।

কর্ণফুলী নদীর চরের জায়গা দখল করে পাঁচ শতাধিক অবৈধভাবে ঝুপড়ি ঘর ভাড়া দিয়ে কামাই করে প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা। অবৈধ কর্মকান্ডের আয়ের ভাগ একটি অংশ পুলিশ, চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা প্রশাসকের অফিস,বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন নিয়মিত চাঁদা নিয়ে যায় বলে মরিয়ম বেগম নামের এক ভাড়াটিয়া জানিয়েছে। কসাই আকতারের একাধিক মাছ ধরার ট্রলার, বালু ড্রেজার, গ্রামের বাড়ি কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাশে শিকলবাহায় আলীশান ভবন রয়েছে। কসাই আকতারের ঝুপড়ি ঘরগুলো নগরীর মাদক, ইয়াবার অন্যতম জোন। তার অবৈধ এই বস্তিতে এই ব্যক্তির দখলে চলে নানা রাজত্ব, অসামাজিক কর্মকান্ড,মাদক, জুয়ার পাশাপাশি নারীদের নিয়ে দেহ ব্যবসা। আব্দুল করিম সওদাগর, সাইফুল, বাহাদুরের নেতৃত্বে বস্তিতে ৪টি ম্পটে চলছে ইয়াবা ব্যবসা। নুরুল হক ও আকতারের পক্ষে মাদক ব্যবসা, দখলদার, পতিতার ব্যবসা থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাখে সমঝোতা থাকায় থানা পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন আকতার হোসেন। আকতার বক্সিরহাট যুবলীগের সহ সভাপতির পদটি কিনে নেন  টাকার বিনিময়ে । যুবলীগের সহ – সভাপতি হওয়ার পর বহুগুনে  বেড়ে যায় অবৈধ কর্মকান্ড।

গত জানুয়ারিতে এই বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৫ জন নিহত হয়। এতে প্রশাসন ও মিডিয়া জুড়ে আলোচনা শুরু হলেও  আবার আকতার অবৈধভাবে বস্তিগুলো দখলে নেয়। সম্প্রতি চাক্তাই-রাজাখালী খালের অংশ অবৈধ অংশে দখলমুক্ত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে ফরিদুল আলম ও আকতার হোসেন, আব্দুস ছত্তার, বাহাদুরের অবৈধ মার্কেট, জুয়ার ঘর কলোনি ভেঙ্গে দিলেও রাতের আঁধারে দখলে নেয় আকতার সিন্ডিকেটের লোকজন। অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য যুবলীগের আকতার হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই  বিষয়ে বক্সিরহাট ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মান্না বিশ্বাস বলেন, আকতারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় দখল বে-দখলসহ বিভিন্ন অপকর্মের সংবাদ পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। আকতারের অনৈতিক কর্মকান্ডে যুবলীগের নেতা কর্মীরা সমর্থন করে না, উনার অপরাধের জন্য উনাকে কৈফিয়ত দিতে হবে বলে তিনি জানান। এই বিষয়ে শাহ আমানত পুলিশ বক্সের ইনচার্জ জামাল উদ্দীন বলেন, এলাকায় মাদক, জুয়া, ইয়াবা, পতিতার ব্যবসা তুলনামুলকভাবে অনেক কমে গেছে, তবে আকতারের ঝুঁপড়িগুলোতে এখনো অপরাধমূলক কর্মকান্ড হচ্ছে, এগুনো র্নিমূল করার জন্য পুলিশ চেষ্টা করছে, আকতারকেও আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছেন বলে তিনি জানান।

0 0
Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleppy
Sleppy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close