বান্দরবান জেলায় ৮৮টি প্রান্তিক পরিবার নতুন ঠিকানা পেলেন লামা উপজেলায় দুর্যোগ সহনীয় ১৫টি ঘর নির্মাণ

Read Time2Seconds

লামা-আলীকদম (বান্দরবান) সংবাদদাতা
পার্বত্য বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা নুর জাহান। রুপুসীপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রিয়তোষ বড়–য়া, সরই ইউনিয়নের গিরিশ চন্দ্র ত্রিপুরা, লামা সদর ইউপির গোপাল কৃষ্ণ দাশ, ফাসিয়াখালী ইউপির জুবায়ের আজম, আজিজনগর ইউপির মৃদুল কান্তি দাশ ও ফাইতং ইউনিয়নের বাসিন্দা মো: ইসমাইলসহ আরো কয়েকজন। তারা প্রত্যেকেই সমাজের একবারেই প্রান্তিক জনগােষ্ঠি। সামান্য ভ‚মির মালিক তারা। তাদের বসত ঘর ছিলো যেনতেনো কোনমতে মাতা গুজানোর মতই। দরিদ্র এসব পরিবারগুলো কখনো ভাবেনি তাদের একটি করে সেমিপাকা ঘর হবে।
এসব দরিদ্র অসহায় মানুষের জন্যে জাতির জনক কণ্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে তৈরি করে দিচ্ছে দুর্যোগ সহনীয় ঘর। আকর্ষণীয় এসব ঘর পেয়ে তারা এখন নিশ্চিন্ত চিত্তে সুখে বসবাস করার স্বপ্ন নিয়ে জীবন সংগ্রামে নতুন পথে এগুচ্ছে। দিরভর পরিশ্রম করে রাতে কিংবা ঝড়তুফানের সময় এ জেলার সাত উপজেলায় ৮৮টি পরিবার আর কোন বিপদাশংকায় সময় পোহাতে হবেনা।

জানাগেছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণা বেক্ষণ (টিআর) প্রকল্রে আওতায় বান্দরবান জেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মাঝে দুর্যোগ সহনীয় ৮৮ টি ঘর তৈরি করে দিয়েছে। এতে মোট ব্যায় হয়েছে ২২ কোটি সাত লাখ পঁঞ্চাশ হাজার সাতশ্ আটাশ টাকা। প্রতিটি ঘরে ব্যায় হয়, দু’ লাখ আটান্ন হাজার পাঁচশ্ একত্রিশ টাকা। এর মধ্যে লামা উপজেলায় ১৫টি, আলীকদম উপজেলায় ১০টি। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাকী ঘর নির্মাণ হয়েছে বলে জানাগেছে।
সূত্রে জানাযায়, চলতি অর্থ বছরে জেলায় আরো একান্নটি ঘর নির্মাণ বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে লামা উপজেলায় হবে ৭টি। এবার প্রতিটি ঘর নির্মাণ ব্যায় ধরা হয়েছে দু’লাখ নিরানব্বই হাজার আটশ্ ষাট টাকা। প্রতিটি ঘরে দু’ টি করে কক্ষ-কোনটায় তিনটি, রান্নাঘর-বারান্দা সংযুক্ত ও টয়লেট থাকছে। আকর্ষণীয় ডিজাইনে পরিবেশ বান্ধব রঙিং টিনদ্বারা তৈরি এসব ঘর দুর্যোগ সহনীয় হচ্ছে বলে জানান সুবিধাভুগি প্রান্তিক জনগোষ্ঠি।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,২০১৮-১৯ অর্থ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জেলায় দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ৩৩টি ইউনিয়নে বিভিন্ন গ্রামে ৮৮টি পরিবারে দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ কার্যক্রম ৯৯% সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে আরো ৫১টি ঘর নির্মান বরাদ্দ হয়েছে।

১১ নভেম্বর সকাল থেকে সরেজমিন সন্ধানকালে দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ প্রকল্পের সুবিধাভুগীরা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর উধার নীতির ফসল, ঘরগুলো যেন আমাদের নতুন এক জীবন ।
লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর এ জান্নাত রুমি বলেন, দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ প্রকল্প তিনি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। সরকারের এটি একটি চলমান প্রকল্প, প্রান্তিক জনগোষ্ঠি আধুনিক দুর্যোগ সহনীয় নতুন ঠিকানা পাচ্ছে বলে তিনি জানান।

লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল বলেন, প্রকৃত পক্ষে দরিদ্র মানুষরা যাতে এই সুবিধা পান সেটা নিশ্চিত হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই মহৎ উদ্দেশ্য যাতে সফল হয়, বিশেষ করে উপকারভোগী বাছাই, ঘর নির্মাণ ও কাজের গুণগতমান যাতে বজায় থাকে, সে জন্য উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন সার্বিক মনিটরিং করছে বলেও তিনি জানান।
মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর এই মহতি প্রয়াসে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, গজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান-উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বাথোয়াইচিং মার্মা। তিনি বলেন বর্ণভেদ না রেখে প্রকৃত দরিদ্ররা এই প্রকল্পের আওতায় অন্তুরভ‚ক্ত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং নিজেও এই প্রকল্প পর্যবেক্ষণ করছেন।

 

0 0
Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleppy
Sleppy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close