সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ ১২:২৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে ফাঁদে ফেলে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ এক নারীর বিরুদ্ধে

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ফাঁদে ফেলে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ এক নারীর বিরুদ্ধে

বিভিন্ন কৌশলে প্রতরণার মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ এক নারীর বিরুদ্ধে, শিপ ইয়ার্ড বিক্রির নামে ৮ কোটি টাকার চেক প্রতারণার অভিযোগে এক নারীর বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক দুটি মামলা করেছে এস এ করপোরেশন নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে সম্প্রতি মামলাগুলো করেছেন ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. শাহ আলম। মহিলার গ্রামের বাড়ি রাঙ্গুনিয়ার রওজারহাটের সামশুল হকের মেয়ে পরিচয় দিলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরের সিঅ্যান্ডবি এলাকার এক নারী তাকে লালন পালন করেছেন। ওই নারীর পৈতৃক বাড়ি হাটহাজারী উপজেলার আমানবাজারে।

বাদি পক্ষের আইনজীবী জুলফিকার হায়দার ফয়সাল জানিয়েছেন, প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা দুটি ট্রায়ালের জন্য গত ১০ ফেব্রুয়ারি এবং গত ২১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহারগর আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে। নুসরাত অনেক বড় মাপের একজন প্রতারক। শাহ আলম ছাড়াও নুসরাতের বিরুদ্ধে আরও অনেক ভুক্তভোগী প্রতারণার অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানায় শিপ ইয়ার্ডে জাহাজভাঙা প্রতিষ্ঠান বিক্রির কথা বলে বিভিন্ন সময়ে শাহ আলমের নিকট ৮ কোটি টাকা নেন নুসরাত।   টাকা নেয়ার পর শাহ আলমকে ৫ কোটি ও ৩ কোটিসহ মোট ৮ কোটি চেক দেন। কিন্তু চেকগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ডিজঅনার করেন। নুসরাতকে চাপ প্রয়োগ করলে ২ সেপ্টেম্বর টাকা পরিশোধ করা হবে মর্মে শাহ আলমকে অঙ্গিকারনামা দেন।

এরপরও সময়মতো টাকা পরিশোধ না করায় শাহ আলম তার (নুসরাত) বিরুদ্ধে আদালতে দুটি পৃথক চেক প্রতারনা মামলা দায়ের করেন।  শাহ আলমের ৮ কোটিসহ চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী মো. রাসেল, নারী উদ্যোক্তা মুনী, শাহরিয়ার কবির সুমনসহ একাধিক কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে আরো কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নুসরাত জাহান ওরফে নুসরাত ইকবাল ওরফে বাবলী আক্তার কখনো পরিচয় দেন শিল্পপতির মেয়ে, কখনো পরিচয় দেন শিপ ইয়ার্ড মালিক। বাস্তবে তিনি একজন প্রতারক। শাহ আলম অভিযোগ করেন, এ নুসরাতের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক আছে নগরীর পুলিশের তালিকাভুক্ত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সাথে।

৮ কোটি টাকার চেকের মামলা প্রশ্নবিদ্ধ করতে উল্টো আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে হয়রানি করছেন নুসরাত’ বলেন শাহ আলম। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন লোকজনের সাথে প্রতারণা করে আসছেন নুসরাত। তার প্রতারণামূলক কর্মকান্ডে রাজনৈতিক ব্যক্তি, কখনো ব্যবসায়ী কিংবা কখনো ব্যবহার করেন প্রশাসনের লোকজন। তাদের সখ্যতা গড়ে তুলে প্রতারনা ও ফাঁদ তৈরি করেন।

ভুক্তভোগী মুন্নীর অভিযোগ, নুসরাত ভয়ংকর এক প্রতারক। সে কখনো নিজেকে পরিচয় দেন পুলিশের স্ত্রী। কখনো পরিচয় দেন শিল্পপতির মেয়ে, কখনো পরিচয় দেয় বড় ব্যবসায়ী। তার কাছে টাকা পাবে না এমন কোনো লোক নেই। নুসরাত থাকে চান্দগাঁও আবাসিক বি -ব্লকের বি-১২ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলার ২০২ নম্বর ফ্ল্যাটে। ওই ভবনের মালিক জনৈক হাবীবুর রহমান। এ বাড়ির মলিকও তার কাছে ভাড়া বাবদ পাবেন প্রায় আড়াইলাখ টাকা। এ প্রতারক নারীর অভ্যাস সহজ-সরল মানুষকে ফাঁদে ফেলে লাখ টাকা থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া। টাকা দাবি করলে হুট করে চেক লিখে দেয়। পাওনা টাকার জন্য বাসায় গেলে ঢুকতে দেয় না। মামলার ভয় দেখায়।

এ প্রসঙ্গে চান্দগাও থানার এস আই সাইফুল ইসলাম বলেন,মহিলাটির সাথে আমার আত্বীয়তার সর্ম্পক রয়েছে, উনার ব্যক্তিগত কোন  অপরাধের জন্য সহযোগিতা করার বিষয়টি অস্বীকার সঠিক নয়।   মহিলাটি টাকা পয়সা হারিয়ে একটু বদ মেজাজী হয়ে অনেকের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে বলে জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারী নুসরাতের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে, হুমকি স্বরুপ বলেন, আমার বিরুদ্ধে নিউজ করলে কিছু হবে না, লোকজন আমার কাছ থেকে টাকা পাইলে আপনার সমস্যা কি, এরা ক্ষমতায়  পারলে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে যাক এই বলে ক্ষমতা দেখান।


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *