নভেম্বর ২৭, ২০২০ ২:১২ অপরাহ্ণ

বন্দরে মানুষ মারার কারখানাকে পুনরায় স্মরণ করিয়া দিলেন হাজী ইকবাল !

শেয়ার করুন

 

নজরুল ইসলাম চৌধুরী

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে জাতীয় ও নতুন প্রজন্মকে ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী সিম্যান্স হোস্টেলে মানুষ মারার কারখানার স্থানকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিলেন স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি বন্দর পতেঙ্গার জননন্দিত মেহনতী মানুষের প্রাণ প্রিয় ও গণ মানুষের শক্তি, অন্যায়ের প্রতিবাদকারী বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা হাজী ইকবাল। অশ্রু নয়নের ভাঙ্গাভাঙ্গা কণ্ঠে হাজী ইকবাল বলেন তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের স্বাস্থ্য ও শ্রম সমাজ কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী লেঃ জেনারেল ডবিøউএ বার্কী কতৃক ১৯৬২ইং সালে ২০ জানুয়ারি তারিখে বন্দর থানাধীন মাইলের মাথা সীম্যান হোস্টেলটি স্থাপন করেছিল। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে বীর বাঙ্গালীরা যার যা আছে তা নিয়ে যখন স্বাধীনতার লক্ষ্যে মুক্তি আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ে তখন সীম্যান হোস্টেলকে পাক হানাদার বাহিনীরা বন্দর পতেঙ্গা এলাকার নিরীহ নর-নারীকে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও বাঙ্গালী মুক্তিবাহিনীদেরকে ধরে এনে মারার একমাত্র সেল হিসাবে ব্যবহার করতেন এই সীম্যান হোস্টেলকে। পাক ও নৌবাহিনীর নৌঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার ও বাসস্থান এবং বাঙ্গালী নির্যাতন ও হত্যার কারখানা হিসাবে পরিণত করেছিলেন। অনেক নরনারী মুক্তিবাহিনীকে ধরে এনে নির্যাতিতদের মধ্যে তাহার পিতা তৎকালীন ৫নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আকবর, মুক্তিযোদ্ধা ইউসুপ তার সন্তান মুরাদ, এয়াকুবসহ আরো অনেককে হানাদার বাহিনীরা এই সীম্যান হোস্টেলে বাড়ি থেকে ধরে এনে অমানুষিক নির্যাতন করেছিল বলে বর্ণনায় জানান হাজী ইকবাল।

১৯৭১ সালে ১৫ ডিসেম্বর বন্দর পতেঙ্গার যত পাকিস্তানি নৌ কমান্ডার ও হানাদার বাহিনী তাদের সমস্ত অস্ত্র এই সীম্যান হোস্টেল মাঠে জমা করেছিল। মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর, সালে জহুর, হারুন, শফি, এনাম, ইদ্রিছ, সুলতান কন্ট্রাক্টর, ইউসুফ (ইউসুফ টেক্সটাইলের মালিক), জাহিদ ও মুক্তিযোদ্ধা এয়াকুবসহ এই এলাকার সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে অস্ত্রগুলো জমা করে আত্মসমর্পন করেছিল এবং পরে সেই অস্ত্র গুলো মেহের আফজল হাই স্কুল মাঠে নিয়ে গিয়ে জড়ো করে বঙ্গবন্ধুর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তিনি বলেন এই ঐতিহাসিক সীম্যন্স হোস্টেলে হানাদার বাহিনীর মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের স্থানকে একমাত্র প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামীলীগ ছাড়া বর্তমান হাই ব্রীড নেতারা চিনবেনা ও জানবেওনা। আমি জানার কারণ হলো আমার বাবা আলী আকবর, মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ ও মুরাদকে যখন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীরা ধরে নিয়ে এসে তখন পিছু পিছু এসেছিলাম আমি এই সীম্যান হোস্টেল ঘাঁটিতে । তখন আমি ৮ম শ্রেণিতে পড়ি, বয়স আনুমানিক ১২/১৩। হানাদার বাহিনী যেদিন আত্মসমর্পন করেছিল সেদিনও বাবার সাথে এই সীম্যান হোস্টেলে এসেছিলাম। তাই আমি এই ঐতিহাসিক হোস্টেল সম্পর্কে জানি এবং পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশত বার্ষিকী পালনের পাশাপাশি জাতি ও নতুন প্রজন্ম ও এলাকাবাসীকে জায়গাটি সম্পর্কে অবগত করার জন্য এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন ও দাবী জানাই। এইস্থানকে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে ঐতিহাসিক জায়গা হিসাবে ঘোষণা এবং সংরক্ষণ করা হোক। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব করুনা ভাইরাস সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশত বার্ষিকী ও মুজিব বর্ষ অনুষ্ঠানটি সীমিতা আকারে ঘোষণা দেওয়ার পর আমি প্রধান মন্ত্রীর আদেশ মান্য করে মুজিব শত বার্ষিকী অনুষ্ঠানটি ব্যাপক আকারে না করে আজ শতবার্ষিকীতে কিছু এতিম বাচ্ছাদের খাওয়ানোর চিন্তা ভাবনা করছি ইনশাল্লাহ।


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *