ডিসেম্বর ১, ২০২০ ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা নতুন ঘর পেয়ে খুশি পানছড়ির সাঁওতালরা

শেয়ার করুন

 

শংকর চৌধুরী.খাগড়াছড়ি

পার্বত্যঞ্চলে বসবাসরত পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষ ডিজাইনের ঘর নির্মান। পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার ভারত সীমান্তবর্তী পানছড়িতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের সেই ঘর পেয়ে খুশি সাঁওতালরা।

সরেজমিনে, পানছড়ি সদর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে বড় সাঁওতালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের জন্য নির্মিত বিশেষ ডিজাইনের ঘর গুলোতে উঠে গেছে উপকার ভোগী প্রতিটি পরিবার। প্রত্যেকটি ঘর তিন রুমের। সাথে রয়েছে রান্নাঘর, বারান্দা, গোসলখানা এবং শৌচাগার। এছাড়া প্রতিটি ঘরে বসানো হয়েছে ৫০ ওয়ার্ডের সোলার।

সাঁওতালপাড়ার বিধবা দুই বোন জনিয়া সাঁওতাল ও ময়না সাঁওতাল। বেড়ার একটি ভাঙা ঘরে তাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে থাকতেন এই দুই নারী। সামান্য বৃষ্টি হলে সন্তানদের নিয়ে সারারাত জেগে থাকতে হতো তাদের। দিনমজুর দুই বোনের ঘর মেরামত করার সামর্থ্য ছিল না। চোখের সামনে যখন প্রবল অন্ধকার, তখনি আলো হয়ে দাঁড়ালো উপজেলা প্রশাসন। আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র- নৃগোষ্ঠীদের জন্য বিশেষ ডিজাইনের একটি সেমিপাকা ঘর পান জনিয়া সাঁওতাল। এখন সেই ঘরেই সন্তানদের নিয়ে থাকছেন দুই বোন।

শুধু জনিয়া সাঁওতাল নয় এই পাড়ায় বিধবা রুপসী সাঁওতালও পেয়েছেন একটি নতুন ঘর। রুপসী সাঁওতাল বলেন, ৮ বছর আগে স্বামী মারা যায়। এরপর থেকে তিন মেয়েকে নিয়ে দুই রুমের পুরোনো ভাঙ্গা ঘরে ছিলাম। ঘর ভিটে ছাড়া কোন জায়গা জমি নেই। দিনমজুর করে খেয়ে-নাখেয়ে অনেক কষ্টে দুই মেয়েকে কলেজে এবং এক মেয়েকে স্কুলে পড়াচ্ছি। টাকা ছিলনা ঘর মেরামত করার। এখন এমন একটি ঘর পেয়েছি সারা জীবন আর ঘরের চিন্তা করতে হবে না। সুধু রুপসী সাঁওতাল ও জরিনা সাঁওতাল নয় সেমিপাকা ঘর পেয়েছেন ১১টি সাঁওতাল পরিবার। ঘর পেয়ে খুঁশি পাড়াবাসীরাও।

বড় সাঁওতাল পাড়ার বাসিন্দা মিলন সাঁওতাল (কার্বারী) বলেন, আমাদের পাড়ায় ৬৫টি পরিবারের বসবাস। অধিকাংশ দরিদ্র এবং দিনমজুর। এই পাড়ায় এখনো কারোর ইটের তৈরি সেমিপাকা বাড়ি নেই এমনকি সার্মথ্যও নেই এই ধরনের বাড়ি করার। সরকারের কাছ থেকে ১১টি পরিবারকে সেমিপাকা বাড়ি করে দেওয়ায় পাড়াবাসি সবাই খুশি। তিনি এলাকাবাসীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নতুন ঘর পেয়ে কলেজ পড়–য়া ফাল্গুণী সাঁওতাল, জোনীয়া সাঁওতাল ও শুখু সাঁওতাল তাদের ঈশ^রের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু এবং সুস্থতা কামনা করেছেন।

প্রকল্প কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের জন্য বিশেষ ডিজাইনে এই ৯টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ ছিলো ৫লাখ ৫১ হাজার টাকা। এছাড়া গত বছর দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রাণালয়ের দুর্যোগ সহনীয় প্রকল্প থেকেও সাঁওতালদের ২টি ঘর দেওয়া হয়েছে।

পানছড়ির নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ের অন্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় পানছড়িতে বসবাসরত সাঁওতালরা অনেক পিছিয়ে। খুবই গরিব এবং দিনমজুরি করতে না পারলে সংসারই চলেনা, অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটায়। তাই বিশেষ বিবেচনার ভিত্তিতে উপজেলার এই প্রকল্পের ১২টি ঘরের মধ্যে ৯টি সাঁওতালদের দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে ২টি প্রকল্পের আওতায় সাঁওতালদেরকে ১১টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে।


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *