এপ্রিল ১৩, ২০২১ ৩:৩৫ পূর্বাহ্ণ

ডিসি-ওসির নাম ভাঙ্গিয়ে বন্দর থানা এলাকায় ক্যাশিয়ার আবিদের চাঁদাবাজি

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি

বন্দর থানায় নতুন ওসি যোগদানের পর নতুন ক্যাশিয়ার হিসাবে নিয়োগ পেয়েছে বলে দাবী করে আবিদের। নতুন ওসি যোগদানের অল্প কিছুদিনের মাথায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কন্সটেবল লতিফের ছেলে আবিদ বন্দর থানায় নিজেকে ক্যাশিয়ার দাবী করে বলে জানায় এলাকাবাসী। জানা যায়, লতিফ বন্দর থানার পুরাতন ক্যাশিয়ার হিসাবে পূর্বে দায়িত্বে থাকলেও বর্তমান তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় উত্তরসূরী হিসাবে বন্দর থানায় আবিদ নতুন ক্যাশিয়ার হিসাবে দায়িত্ব নেন। বাবার সূত্র ধরে আবিদের বন্দর থানা এলাকায় দীর্ঘদিন বসবাস। তাই এলাকার যত অবৈধ অপকর্ম আছে সব তার নখদর্পণে, রয়েছে অপরাধীদের সাথে তার গভীর শখ্যতা।  বাবার বখাটে ছেলে আবিদ অনেক জায়গায় চাকুরীর তদবির করলেও স্বভাবের কারণে চাকুরী হয়নি তার। থানা এলাকায় যত অবৈধ স্পট আছে তার পা স্পর্শ করেনি এমন জায়গা খুবই কম। এলাকার যত মাদক সেবক, মাদককারবারী ছিনতাইকারী, পতিতালয় ও জুয়ার মালিক সবই তার জানা শুনা। অভিজ্ঞতার কারণে তাকেই এ গুরু দায়িত্ব দিয়েছে বলে নিজেকে দাবী করে আবিদ। শারীরিক গঠন ও বাকভঙ্গি উচু লম্বা হওয়াতে নিজেকে কখনো কখনো বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ হিসাবে পরিচয় দেন। এতে সে নিজেকে স্বাচ্ছন্দ্য ও গর্ববোধ করে।

বন্দর থানা এলাকায় যত মাদক ও অবৈধ স্পট আছে ডিসি মহোদয়ের নির্দেশে সব বন্ধ করে দিলেও আবিদ ক্যাশিয়ার হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তা পুনরায় চালু করার জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং কিছু কিছু চালু করেছে ওসি ও ডিসির নাম ভাঙ্গিয়ে এ অবৈধ স্পট থেকে মাশুয়ারা নেন মোটা অংকের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জুয়ার ঘরের মালিক জানায়, বন্দর থানার ক্যাশিয়ার পরিচয়দানকারী আবিদ আমার সাথে যোগাযোগ করে বলে যে- আমি নতুন ক্যাশিয়ার আমার সাথে ওসি সাহেবের হট সম্পর্ক জুয়া বসাতে চাইলে পারবি! তবে প্রতি জুয়ার ঘরে মাসিক দেড় লক্ষ টাকা আর দৈনিক হলে ৫ হাজার টাকা দিতে হবে, ডিসি ওসিকে আমি ম্যানেজ করব। আমার হাত অনেক লম্বা। সে আরো বলে এ থানায় কেউ অবৈধ ব্যবসা করতে চাইলে আমার অনুমতি ও আমার সাথে কন্ট্রাকে আসতে হবে। কন্ট্রাকে আসলে নির্ভয়ে, নিরাপদে ব্যবসা করতে পারবি।

ফকিরহাট, নিমতলা, ইছাক ডিপো, সল্টগোলা ক্রসিং আজাদ কলোনীতে যত অবৈধ মদ, জুয়া, মাদক ব্যবসা, পতিতালয় ও অবৈধ তেল চুরির ব্যবসা আছে সবার সাথে আমার কোটা আছে। ইছাক ডিপোর এক দোকানদার পরিচয়ে গোপন শর্তে জানায়, বন্দর থানার নাম ভাঙ্গিয়ে ক্যাশিয়ার আবিদ যত অপকর্মের স্পট আছে সবার কাছ থেকে মাসিক ও দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করে। নিমতলায় আরেক সচেতন ব্যক্তি জানায়, ক্যাশিয়ার আবিদ আসার পর থেকে এলাকায় মাদক সেবক, মাদককারবারী, জুয়ার আসর, চুরি, ছিনতাই ও পতিতালয়ের ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনগত কোন ব্যবস্থা না নিলে আমরা এলাকাবাসী ও সচেতন মহল তার বিরুদ্ধে মানববন্ধনে নামব। এ বিষয়ে আমরা সিএমপি পুলিশ কমিশনার মহোদয় বরাবরে একটি দরখাস্তও দিয়েছে।

সূত্রে আরো জানা যায়, আবিদ ক্যাশিয়ার হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বন্দর থানা এরিয়াতে এ সমস্ত অবৈধ স্পট বসানোর জন্য বিভিন্ন অপরাধীদের সাথে যোগাযোগ করে উৎসাহ ও সাহস যোগাচ্ছে। আবিদের কারণে যুব সমাজ বেপথে গিয়ে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ধর্ষণের মতো অপরাধ বেড়ে যাবে বলে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে। ক্যাশিয়ার আবিদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে ক্যাশিয়ার হিসাবে পরিচয় দিলেও পরে পত্রিকা অফিস থেকে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে সে নিজেকে ক্যাশিয়ার ‘না’ বলে অস্বীকার করে। এ বিষয়ে বন্দর থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করে ক্যাশিয়ার আবিদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘ক্যাশিয়ার আবিদ নামে কাউকে আমরা চিনি না’।


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *