জানুয়ারি ২১, ২০২১ ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ

  যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ দিন জরুরি অবস্থা ঘোষণা : পার্লামেন্ট ভবনে ট্রাম্প সমর্থকদের নজিরবিহীন হামলা নিহত ৪

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবনে (ক্যাপিটল বিল্ডিং) কংগ্রেস অধিবেশনে জো বাইডেনের নির্বাচনে জয়ের স্বীকৃতির প্রক্রিয়া চলছিল। বুধবার সেখানে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার ঘটনায় এক নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। অধিবেশন চলাকালে হঠাৎ করেই ট্রাম্প সমর্থকরা সেখানে তাণ্ডব শুরু করে। ভাঙচুরের পাশাপাশি সেখানে গোলাগুলিও হয়েছে। এতে ওই নারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। খবর রয়টার্স, সিএনএন,

এর আগে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনের সামনে কয়েক হাজার ট্রাম্প সমর্থক কংগ্রেস অধিবেশনের বিরোধিতা করে জড়ো হন। সেই সমাবেশের বক্তব্যে নভেম্বরের নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর পরেই অধিবেশনে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলা ও সহিংস বিক্ষোভের মুখে ভবনটি অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ।

কয়েকশ ট্রাম্প সমর্থক ক্যাপিটল ভবনের নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশের বাধা ভেঙে ক্যাপিটল ভবনে ঢুকে পড়েন। যাদের মধ্যে উগ্রপন্থি বিভিন্ন গ্রুপের সদস্যরাও রয়েছেন। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদুনে গ্যাস ও পেপার স্প্রে ব্যবহার করে পুলিশ।

সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিনিধি পরিষদের (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সদস্যদের পাহারা দিয়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে পুলিশ। কয়েকজন ট্রাম্প সমর্থক আইনপ্রণেতার নির্বাচনের ফল বাতিলের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই সেখানে এই গোলযোগের সৃষ্টি হয়।

গোলযোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে সিনেট অধিবেশনও মুলতবি করা হয়। যৌথ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করা ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকেও পাহারা দিয়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে পুলিশ। এ সময় পুলিশ অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত আইনপ্রণেতাদের তাদের আসনের নিচ থেকে গ্যাস মাস্ক বের করে পরার পরামর্শ দেয়।

ক্যাপিটল বিল্ডিং এর ভেতর থেকে বিস্ময় প্রকাশ করে মিশিগানের কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স টুইটে লিখেছেন, “আমি আমার অফিসের এক জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছি। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে, এটা আমাকে লিখতে হচ্ছে।”

নির্বাচনে পরাজয় নিয়ে বিক্ষুব্ধদের মধ্য থেকে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করা হলে সামনের দিকে অবস্থানরত পুলিশ কর্মকর্তারা বন্দুক তাক করেন। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বোয়ার্স সন্ধ্যা ৬টা থেকে শহরজুড়ে কার্ফ্যু জারি করেছেন।

মূলত ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের কাছে সমবেত কয়েক হাজার সমর্থকের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার পর এই গোলযোগ দেখা দেয়। বক্তব্যে ভিত্তিহীন পুরনো অভিযোগ ব্যাপক জালিয়াতির মাধ্যমে তার কাছ থেকে নির্বাচন ‘চুরি করে নেওয়া হয়েছে’ বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প।

ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান উভয় দলের নির্বাচন কর্মকর্তা ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা সবাই ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে তেমন কোনো জালিয়াতি না হওয়ার কথা বলেছেন। ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে ৭০ লাখের বেশি পপুলার ভোট পেয়েছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের নির্ধারক ইলেকটোরাল ভোটের হিসাবে ট্রাম্পের ২৩২টির বিপরীতে বাইডেনের পক্ষে আসে ৩০৬টি। এরপর দেশের বিভিন্ন স্টেটে নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আদালতে গিয়ে বিফল হয় ট্রাম্প শিবির।

যেসব স্টেটে ট্রাম্প অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন সেই সব স্টেটের নির্বাচনের ফল বাতিলের জন্য তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্সকে চাপ দিচ্ছেন, যদিও তার এই ক্ষমতা নেই।

কংগ্রেসে স্বীকৃতির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এক্ষেত্রে কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা অ্যারিজোনাসহ কয়েকটি স্টেটের ফল বাতিলের প্রস্তাব তুললে তা কয়েক ঘণ্টার আলোচনার রসদ জোগাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটন ডিসি’তে ১৫ দিন জরুরি অবস্থা ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের মেয়র শহরে আরো ১৫ দিন জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছেন।

মেয়র মুরিয়েল বাউজার বলেছেন, “অনেকেই অস্ত্রসহ এখানে এসেছেন সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞে অংশ নিতে। তারা অস্ত্রের পাশাপাশি রাসায়নিক, ইট এবং বোতলও নিক্ষেপ করেছেন।”

জরুরি অবস্থার ঘোষণার ফলে ওয়াশিংটন ডিসির নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য কারফিউ দেয়া, জরুরি পণ্য সরবরাহের বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিত পারবে শহর কর্তৃপক্ষ।

২১শে জানুয়ারি দুপুর ৩টা পর্যন্ত এই ঘোষণা বলবত থাকবে।

স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত শহরে কারফিউ জারি রয়েছে।


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *