ডিসেম্বর ৪, ২০২১ ৪:৫৩ অপরাহ্ণ

আগামী চার মাসে ঘর পাচ্ছেন আরও এক লাখ গৃহহীন

শেয়ার করুন

প্রথম পর্যায়ের গৃহনির্মাণ কাজের মান নিয়ে সারা দেশে প্রশংসা হয়েছে জানিয়ে কাজের গুণগতমান ধরে রাখারও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

আগামী এপ্রিলে ঘর পাচ্ছেন অর্ধলক্ষ ঘরহীন মানুষ। আর জুন মাসে মাথা গোঁজার ঠাঁই হচ্ছে আরও ৫০ হাজার গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের। মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে এসব ঘর করে দিচ্ছে সরকার।

জানুয়ারিতে সারাদেশে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৭০ হাজার ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ঘর উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ঘোষণা ছিল, মুজিববর্ষে দেশে একজন মানুষও ঘরহীন থাকবে না।

আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে ৫০ হাজার নতুন ঘর নির্মাণের কাজ শেষ দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী। আর তাই বৃহস্পতিবার দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

এদিন দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওই সভায় ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেয়া বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে সরকারপ্রধানের নির্দেশনা পৌঁছে দেন সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।

প্রথম পর্যায়ের গৃহনির্মাণ কাজের মান নিয়ে সারাদেশে প্রশংসা হয়েছে জানিয়ে কাজের গুণগতমান ধরে রাখারও নির্দেশনা দেন তিনি। বলেন, এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

দ্বিতীয় ধাপের ঘরে কিছু পরিবর্তন আসছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মাহবুব হোসেন।

তিনি বলেন, ‘এবার আমরা যে ঘরটি করব, সেটির ডিজাইনে ছোটখাটো কিছু পরিবর্তন এসেছে। একই সঙ্গে ঘরের বাজেটের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী মনে করেছেন যে, বাজেটটা আরেকটু বাড়িয়ে দেওয়া দরকার। সেজন্য ঘর প্রতি ২০ হাজার টাকা বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি ঘরের জন্য পরিবহন খরচসহ ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ধরা হয়েছিল। এবার তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা করা হয়েছে বলেও জানান প্রকল্প পরিচালক।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব বলেন, ‘এ বছর আমরা আরও ১ লাখ ঘর করব। আমরা এই পর্যায়ে ৫০ হাজার বরাদ্দ দিচ্ছি আজকে। আগামী দুই মাসের মধ্যে আমরা কিন্তু আরো ৫০ হাজার বরাদ্দ দেব। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া।’

সভায় কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় ধাপে যে ঘরগুলোর বরাদ্দ দিচ্ছি, এটির নির্মাণ সমাপ্ত হতে হবে ৭ এপ্রিলের মধ্যে। আমরা আশা করি ১৫ এপ্রিলের দিকে আমরা এই ঘরগুলো উদ্বোধন করবে। ৭ এপ্রিল হচ্ছে আমাদের ডেডলাইন।’

কাজের অগ্রগতি ও মান যাচাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হবে বলেও জানান সচিব।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তাফিজুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মাহবুব হোসেনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *