জুন ২১, ২০২১ ৩:৪৬ অপরাহ্ণ

কোয়াড নিয়ে চীনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের কড়া জবাব দিলো বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

সম্প্রতি বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত চার জাতি জোট ‘কোয়াড’ -এ যোগ না দেয়ার আহবান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। কোয়াডে অংশ নিলে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যথেষ্ট খারাপ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। চীনা কূটনীতিকের এমন মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ।

চীনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের জবাবে মঙ্গলবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, “স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নিজেস্ব পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিবে।”

গত সোমবার, বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ‘ডিক্যাব’ এর সঙ্গে এক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় কোয়াডকে চীনবিরোধী একটি ছোট গোষ্ঠী হিসেবে উদ্ধৃত করেন চীনা রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের কোয়াডে অংশগ্রহণ করা উচিত নয়। কেননা, এর থেকে বাংলাদেশের কোনো লাভ হবে না। উলটো ঢাকা-বেইজিং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ক্ষতির কারণ হবে।”

চীনা রাষ্ট্রদূতের বরাত দিয়ে বাংলাদেশের বিডিনিউজ২৪ ডট কম সহ অন্যান্য সংবাদপত্র লিখেছে, “কোয়াড বলে থাকে যে তাঁরা কেবলই একটি অর্থনৈতিক জোট এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নৌ চলাচল স্বাধীন ও নিরাপদ রাখতে তাঁরা কাজ করে। কিন্তু আমরা জানি তাঁদের লক্ষ্য চীন। ইতোমধ্যে জাপান এটি স্বীকারও করেছে।”

উল্লেখ্য, কিছুদিন পূর্বেই চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গি দক্ষিণ এশিয়ায় একটি সামরিক জোট প্রতিষ্ঠা এবং তাতে অংশ নেয়ার জন্য ঢাকাকে আমন্ত্রণ জানান। এর মাঝেই কোয়াড নিয়ে বেইজিং এর তরফে এমন হুঁশিয়ারি বার্তা পেলো ঢাকা।

চীনা রাষ্ট্রদূতের এমন বার্তাকে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূট বলে অভিহিত করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কোনো সামরিক জোটে যোগ দেয়ার আগ্রহ বাংলাদেশের নেই। ঢাকা একটি নিরপেক্ষ ও সুষম বৈদেশিক নীতি বজায় রেখে চলে এবং এই নীতিমালা অনুযায়ীই নিজেদের করণীয় সিদ্ধান্ত নিবে।”

কোয়াডের তরফে কোনো আমন্ত্রণ পাননি জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, “বাংলাদেশের সাথে কোয়াডের কোনো কথা হয়নি। তারা কোনো যোগাযোগ করেনি৷ আমরাও না। চীন কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। কিন্তু চীনের রাষ্ট্রদূত এমন কেন করলেন তা বুঝতে পারছি না। ওনার হয়তো ধারণা হয়েছে কোয়াড আমাদের ডাকছে। হয়তো উনারা চান না আমরা সেখানে (কোয়াড) যোগ দিই।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের বরাত দিয়ে খবরটি নিশ্চিত করেছে ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)।

প্রসঙ্গত, ভারত, আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ে কোয়াড্রালেটারাল সিকিউিরিটি ডায়ালগ (কোয়াড) ২০০৭ সাল থেকে কাজ শুরু করে। ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরে নৌপথে চলাচল স্বাধীন ও নিরাপদ রাখার উপায় খুঁজতে এই জোট কাজ শুরু করে।


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *