জুলাই ২৮, ২০২১ ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ

গভীর সমুদ্রে অভিযানের অনুমোদন দিলো ভারত

শেয়ার করুন

‘গভীর সমুদ্রে অভিযান’ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবকে অনুমোদন দিলো ভারতীয় মন্ত্রীসভা। বুধবার, ১৬ জুন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে ভারতীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মূলত, গভীর সমুদ্রে সম্পদ আহরন এবং পরবর্তীতে টেকসই ব্যবহারের জন্য গভীর সমুদ্র প্রযুক্তি বিকাশের লক্ষ্যে ‘গভীর সমুদ্র অভিযান’ প্রস্তাবে সায় দিলো মোদী মন্ত্রীসভা।

ধারণা করা হচ্ছে, অভিযানটি পরিচালনা করতে ৫ বছরে আনুমানিক ব্যয় হবে ৪০৭৭ কোটি রুপী, যার প্রায় ২৮২৩ কোটি রুপী প্রথম তিন বছরে ব্যয় করা হবে। এটি ভারত সরকার গৃহীত ব্লু ইকোনোমি মিশন বাস্তবায়নের অন্যতম উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়।

উক্ত অভিযানটি পরিচালিত হবে মূলত ছয়টি প্রধান লক্ষ্য নিয়ে। সেগুলো যথাক্রমে, গভীর সমুদ্রে খনিজ সম্পদ আহরন এবং শক্তিশালী সাবমার্সিবল ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য প্রযুক্তির বিকাশ; সাগরের জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ভূমিকা রাখা; গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য অনুসন্ধান ও সংরক্ষণ; গভীর মহাসাগরে জরিপ পরিচালনা; সাগরের পানি থেকে তাপ শক্তির রূপান্তর এবং সুপেয় পানিতে রূপান্তর; এবং, সাগরে জীব বিজ্ঞানের জন্য উন্নত মেরিন স্টেশন তৈরী।

উল্লেখ্য, পৃথিবী জুড়ে সাগর-মহাসাগরের যে ব্যপ্তি রয়েছে, তাঁর প্রায় ৯৫ শতাংশই অজানা রয়ে গিয়েছে। গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি গুলোও বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে একেবারেই সহজলভ্য নয়। তবে শীর্ষস্থানীয় সরকারী ও বেসরকারী শিল্পের সাথে একীভূত হয়ে দেশীয় ভাবে সেগুলো উৎপাদনের চেষ্টা করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তাছাড়া, সমুদ্রের গভীরে অভিযান পরিচালনার জন্য একটি গবেষণা জাহাজও নির্মাণ করা হবে।

এই মিশনটির ব্যপ্তি, বিস্তৃতি, সক্ষমতা এবং লক্ষ্য সার্বিকভাবে ভারতীয়দের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্ত হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, টেকসই উন্নতি অর্জনে সমুদ্র বিজ্ঞানের গুরুত্ব বিবেচনা করে জাতিসংঘও ২০২১-৩০ অবধি সময়কালকে সমুদ্র বিজ্ঞান দশক হিসেবে ঘোষণা করেছে। ভারত জুড়ে নয়টি রাজ্য এবং ১৩৮২ টি দীপপুঞ্জ ঘেঁষে প্রায় ৭৫১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সীমা রয়েছে। তাই সমৃদ্ধি অর্জনে সমুদ্রের গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারত সরকার ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে নীল অর্থনীতি বিকাশের নীতি গ্রহণ করে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন ভারত গঠনের যে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে, সেখানে সমুদ্র গবেষণা এক অনস্বীকার্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে।


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *