জুলাই ২৮, ২০২১ ৪:৩২ পূর্বাহ্ণ

বিদ্যুৎ বিল ভুল মিটারে গেলে ফেরত পাবার নিয়ম জানে না সাধারণ গ্রাহকেরা, এমন কি কর্মকর্তারাও !

শেয়ার করুন

অনলাইনে প্রিপেইড ও পোস্টপেইড বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা নানান ভোগান্তিতে হিমসিম খাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিল ভুল মিটারে গেলে ফেরত পাবার নিয়ম জানে না সাধারণ গ্রাহকেরা, এমন কি বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারাও ! অফিসে গিয়ে সাধারণ গ্রাহকেরা এই বিষয়ে দিন দিন হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। বিকাশ, রকেট ও নগদে ভুল নাম্বারে টাকা সেন্ট করলে ওই টাকা উদ্ধারে কয়েক প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেয় ওইসব কোম্পানী।  কিন্তু ভুল মিটারে গ্রামীনফোনে বিল প্রদান হওয়ায় নিজের মিটারে ফেরত আনার কোন কৌশল বলতে পারেনি চট্টগ্রামের বাকলিয়া বিদ্যুৎ অফিস। ফলে ওই গ্রাহক ডিজিটাল পদ্ধতি নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন।এইরকম অহরহ ঘটনা ঘটলেও কেউই সুরাহা পাচ্ছেন না।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার বাসিন্দা একটি ডিজিটাল সেন্টারে বিকাশে বিদ্যুৎ বিল দেয় । ওই  বিদ্যুৎ বিল ভুলবশত মিটার নং  ০১০১ ১০২৯ ৫২১১ এর  পরিবর্তে ০১০১ ১০২২ ৫২১১  নাম্বারে জমা হয়। গ্রাহক চেনেন না মিটার নং  ০১০১ ১০২২ ৫২১১ এর মালিক কে। চেনাও স্বাভাবিক নয়। ৪ জুলাই রাত ৯টা ৫মিনিটে ২০২১ এই বিল প্রদান করা হয় ও টাকার পরিমান ৫০০ ।  এটার ইনভয়েচ নাম্বার হলো ২০৪৫৪১১১৩০৭৮০০৫৬ ও ট্রান্সজেকশান আইডি হলো বিপি ২১০৭০৪.২১০৫.এ০৩৩৩০। নাম্বার গুলো ইংরেজীতে লেখা। এই বিলটি ৫০০টাকা হলেও অনেক মিল, ফ্যাক্টরীর বিল মোটা অংকের হয়। তখনই বাঁধে চরম বিপত্তি।

খোঁঁজ নিয়ে জানা গেছে, এইরকম অহরহ গ্রাহকেরা ভুল করে। এই রকম ভুল দুইভাবে হয় ১. গ্রাহক ভুলবশত ভুল নাম্বার দেয় অথবা ২. ডিজিটাল সেন্টারের লোকও ভুল করে ভুল মিটার নাম্বারে বিল পাঠিয়ে দেয়। বিল প্রদানের বিশ অংক মিটারে ঢুকানোর পর ভুল ধরা পড়ে অথবা এর আগেও। উপরে আলোচিত বিলটি বিশ সংখ্যা ঢুকানোর আগেই ধরা পড়ে। ফলে যার মিটারে এই টাকা গেছে তিনিও বিষয়টি সহসা জানার কথা নয়। এই রকম ঘটনা নিত্যদিন ঘটলেও বিদ্যুৎ অফিস কেমন সমাধান দেয় তা এই প্রতিবেদক আজ বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও খুঁজ পাননি কোন উপায়। এ বিষয়ে ঢাকা হেড অফিসে আজ ৫ জুলাই ১টা ৫২ মিনিটে ০১৭১৪১৪৯৫০২ ও ০১৭১৪১৪৯৫০৩ নাম্বারে অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করলে তারা জানান এই সংক্রান্ত অফিস বন্ধ থাকায় বিস্তারিত জানাতে পারছি না। কখন জানাবেন তাও নিশ্চিত করেনি ওই কর্তা।

www.bpdb.gov.bd এই ওয়েভের অভিযোগ বক্সেও নাম, মোবাইল ও মেইল নাম্বার  দিয়ে তথ্যসহ অভিযোগ করা হয় । সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো অভিযোগ তারা পেয়েছেন বিষয়টি অটো মেসেজে জানানো হয়। এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময়ে ওই গ্রাহক কোন সুরাহা পাননি।

গোটা দেশে এভাবে বহু গ্রাহক হয়রাণীর শিকার হচ্ছেন। মানুষের ভুল হবে এবং ভুল রোধও সম্ভব নয়। কিন্তু ভুল সংশোধন ও এসবের সহজ সমাধান থাকা চাই। চাই গ্রাহকের ভ্রান্তি ও হয়রাণী লাঘব। একজনের টাকা অন্যজনের ব্যবহার বন্ধ করা হোক। এটার যৌক্তিক ও সহজ সমাধান সহসা বের করে ব্যাপক প্রচার করে ডিজিটাল পদ্ধতির অপপ্রচার রোধ করা খুবই জরুরী।

 


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *