ডিসেম্বর ৪, ২০২১ ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

সংবাদ প্রকাশের পরও প্রশাসনের টনক নড়েনি, হালিশহরে মাদক ও অসামাজিক কাজ জোরদার করছে সিন্ডেকেট নেতা শাহাবুদ্দিন!

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি
পুলিশের আশ্রয় পেয়ে মাদক ও অসামাজিক কাজ জোরদার করছে সিন্ডেকেট নেতা শাহাবুদ্দিন ! হালিশহর ৩৮ ওয়ার্ড ধুমপাড়া সাগর পাড়ে মাদক সিন্ডেকেটের হোতা কে এই শাহাবুদ্দিন ? এই শিরোনামে পূর্ব বাংলা অনলাইন, ইপেপার ও প্রিণ্ট ভার্সনে সংবাদ প্রকাশিত হবার পর স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ীর এস আই শরীফ কোন প্রকার প্রতিকারতো করেননি বরং সংবাদে উল্লেখিত শাহাব উদ্দিনের সাথে খোশগল্প করতে দেখা গেছে। শাহাব উদ্দিনের ভাই ও ভাগিনার সাথে পুলিশ ফাঁড়ীর এস আই শরীফের গোপন লেনদেন থাকায় মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড এখানে বন্ধ হচ্ছে না বলে স্থানীয় লোকজন সুত্রে জানা গেছে।

 বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড ধুমপাড়া সাগর পাড় থেকে লাইলি বিট আনন্দ বাজার এলাকা জুড়ে মাদক, দেহ ব্যবসা ও জুয়া খেলার এলাকা হিসেবে পরিণত হয়েছে। ফলে এখানে শান্তি – শৃংখলার দিন দিন অবনতি হয়ে বিষিয়ে উঠছে স্বাভাবিক পরিবেশ। এই এলাকার অলি গলিতে চলে ব্যাটারী চালিত অসংখ্য অনুমোদনহীন গাড়ী। ক্যাসিনো চলে অবাধে। বাংলা মদ ও ইয়াবার হাট বসে বেশ কয়েকটি স্পটে। এস আই শরীফের সবই জানা আছে দাবী এলাকাবাসীর। স্থানীয় এলাকাবাসীর প্রশ্ন পুলিশ কী এসব দমন করবে নাকি মাসোহারা নিয়ে আশ্রয় দেবে? সচেতন এলাকাবাসী এসব বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে  ও যেকোন মুহূর্তে মানব বন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনও করবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

জানা গেছে,  ধুমপাড়া সাগর পাড় শাহাবুদ্দিন কলোনিতে চলছে অবাধে রমরমা দেহ ব্যবসা,  জুয়ার আসর ও তার আশেপাশে বস্তিগুলোতে জমে উঠেছে বিশাল আকারে মাদক সিন্ডিকেট।শাহাবুদ্দিনের কলোনিতে দেহ ব্যবসা পরিচালনা করেন সালমা নামের একজন মহিলা , আর অন্যদিকে জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করেন শাহাবুদ্দিনের ভাগিনা এবং তার বাড়ির ইনচার্জ। শাহাবুদ্দিনের দেহ ব্যবসা মাদক সাম্রাজ্যের সহযোগী পার্টনার হিসেবে কাজ করছেন পুরো এলাকাজুড়ে আর একটি সিন্ডিকেট। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সোলতান,  শাহজাহান , দিদার, ইমতিয়াজ, ফারুক ও আরো অনেকেই। দস্তুরমতো সাহাবুদ্দিন যুবলীগ ও মুক্তিযুদ্ধের সন্তান পরিচয়ে এসব অপকর্ম চালাচ্ছে। সে ভিজিটিং কার্ড চাপিয়ে সবাইকে নিজের মোবাইল নাম্বারও দেয়। তার কারণে ক্ষমতাসীন দলের বদনামও হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনেকদিন ধরে চলছে শাহাবুদ্দিনের কলোনির এই দেহ ব্যবসা। এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করে বলেন, সারাদিন তার বাড়ির ভেতরে চলে দেহ ব্যবসা ও জুয়ার আসর আর প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকেই মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তদের আনাগোনায় এই জায়গা অস্থির হয়ে ওঠে। ডরে ভয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদও করে না, করে না কোন লিখিত অভিযোগও।
আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে,  এখানে  রাতভর চলে মাদক বেচাকেনা ও মাদক সেবন। এতে করে নিঃস্ব হচ্ছে এলাকার খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সন্ধ্যার পরে পাল্টে যায় এই এলাকার চিত্র।। এক পাশে দেহ ব্যবসা আর অন্যপাশে মাদকের বেচাকেনা এতে করে এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

আতঙ্কিত ও ভীত এলাকাবাসী আরো জানান, তার সাথে হালিশহর পুলিশ ফাঁড়ির রয়েছে গভীর সম্পর্ক এবং মাঝে মধ্যে পুলিশ এসে খোশ আড্ডায় মগ্ন থাকতে দেখা যায়। আর অনেকটাই পুলিশ প্রশাসনের সামনে চলে জুয়া খেলা ও মাদকের পাইকারি বেচাকেনা। দ্রুত যুবসমাজকে এ ভয়ঙ্কর নেশার হাত থেকে বাঁচাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকার সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে শাহাবুদ্দিনের মুঠোফোনে জানতে চাইলে, তিনি আমাদের পরিচয় জানতে পেয়ে, তার ভাগিনাকে ফোন ধরিয়ে দেন। এবং তার ভাগিনা আমাদের সাথে মুখোমুখি কথা বলতে প্রস্তাব দেন এবং কিছু সম্মানি দেওয়ার কথা বলেন।এ বিষয়ে কথা হয় বন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক ওসি সাহেবের সাথে ।  তিনি বলেন, আমি এই লোকেশন টা খুঁজে পাচ্ছি না । আমরা ইতিমধ্যে অনেক অভিযান চালাইয়েছি  যদি লোকেশন মোতাবেক পৌঁছাতে পারি তবে আমরা অ্যাকশন অবশ্যই নিব।
এ বিষয়ে কথা হয় এসআই শরীফ সাহেবের সাথে। শরীফ সাহেব বলেন, ওসি সাহেবের বক্তব্যের পর আমার বক্তব্যের দরকার কি ?  ওসি সাহেবের আমরা নির্দেশ পালন করি। ওসি সাহেবের বাইরে গিয়ে আমাদের কিছু করার নেই ।

কথা হয় স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরীর সাথে। তিনি বলেন, যত বড় নেতা হোক, আপনারা কাউকে ছাড় দিবেন না, সত্য যা তা অবশ্যই লিখবেন।
আমিও কয়েক দিন ধরে শুনতে পাচ্ছি। আপনি রশি দিয়ে বেঁধে আমাকে ফোন করলেন না কেন । আমি সব কয়টাকে পুলিশের কাছে দিতে চাই।
তিনি আরো বলেন, আমার এলাকায় আপনারা এসে কোন ধরনের কিছু সম্মুখীন হলে অবশ্যই আমাকে জানাবেন। আমার সহযোগিতা অবশ্যই আপনারা পাবেন। আমি কোন মাদক সিন্ডিকেটের পক্ষে না, আপনি এ বিষয়ে ভালো করে লিখবেন । কার নাম কি সেটা দেখার দরকার নাই, আপনি আপনার কাজ চালিয়ে যান।

 


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *